নিজস্ব প্রতিবেদক: রাউজানে সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতন, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে রাউজান উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ জুন) বিকালে উপজেলা কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভায় সনাতন সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি, নিরাপত্তাহীনতা ও সম্পত্তি দখলের মতো নানা ঘটনা তুলে ধরা হয় এবং তা রোধে পুলিশ-প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিসান বিন মাজেদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুমন দাশগুপ্ত।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিসান বিন মাজেদ বলেন, ‘রাউজান একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির উপজেলা হিসেবে পরিচিত। আমরা কোনোভাবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বা বৈষম্যমূলক আচরণ বরদাশত করব না। সনাতন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।’

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে যদি হয়রানিমূলক আচরণ বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা যে কোনো সময় থানায় এসে অভিযোগ জানাতে পারেন, আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।’
সভায় সূচনা বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং রাউজান ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজের মুখপাত্র শ্রী সুমন দাশ গুপ্ত। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘একের পর এক হামলা, ভয়ভীতি, চাঁদা দাবি, মিথ্যা মামলা ও সম্পত্তি দখলের কারণে হিন্দু সম্প্রদায় এক চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।’

বক্তারা, ‘দেবোত্তর ও ধর্মীয় সম্পত্তি রক্ষা, ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, হামলার শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, অনুন্নত মন্দির সংস্কারে বাজেট বরাদ্দ, অপহরণ ও ধর্মান্তর প্রতিরোধে পুলিশ-প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকাসহ একাধিক দাবির কথা তুলে ধরেন।’
মতবিনিময় সভায় ভুক্তভোগী এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমীর চন্দ্র দে, দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে কে শর্মা জনি, সমর নাথ ব্রহ্মচারী, ভক্ত চরণ দাস ব্রহ্মচারী, ডা. লিটন শর্মা,শিক্ষক বিপ্লব দাশ, দোলন দে, পুরোহিত মানিক চক্রবর্তী, ঝুলন আচার্য্য, রাহুল ঘোষ,শিক্ষক মাধব নন্দী, শিক্ষক বিজয় বিশ্বাস।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শুভ দাশ, অমর দাশগুপ্ত, রূপস দাশগুপ্ত, সুজন দাশ, সাগর দাশ, নুপুর পাল, মাধুর্য পাল, হিমাদ্রি পাল ইমন, শিক্ষক রঞ্জিত দেব প্রমুখ।
সভা শেষে রাউজান ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।