রক্তিম দাশ
জিহাদিদের হাত থেকে আমাদের সনাতনীদের বাঁচান! ভারত সরকারের কাছে এমন আকুল আবেদন বাংলাদেশি শরণার্থী বাপ্পাদিত্য বসু। মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে কোনরকমে পালিয়ে আসা শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য সমিতির নেতা মঙ্গলবার কলকাতা প্রেসক্লাবে সনাতনী সংসদের ডাকা সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করলেন, গত দেড় বছরের দখলদার সরকারের আমলে বাংলাদেশ হিন্দু জনগোষ্ঠীর জন্যে নরককুন্ডে পরিণত হয়েছে।
এদিন কলকাতা প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের হিন্দুদের বর্তমান ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে সনাতনী সংসদ। সনাতনী সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রক্তিম দাশ বলেন, আমরা এতদিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়া বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যচারের কথা শুনেছি। এতদিন এদেশে পালিয়ে আসা হিন্দুরা কখনও একথা বলার জন্য সামনে আসেননি। আমরা সনাতনী সংসদের পক্ষ থেকে বাপ্পাদিত্য বসুকে সামনে আনলাম তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলার জন্য। আমাদের দাবি, বাংলাদেশ থেকে যখনই হিন্দুরা এদেশে আশ্রয় নেবেন তাঁদের বিনাশর্তে নাগরিকত্ব দিতে হবে। আর এতদিন ধরে দেশভাগের পর থেকে হিন্দুরা যে জমি,সম্পদ ফেলে পালিয়ে এসেছেন তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
এদিন কান্না ভেজা কন্ঠে বাপ্পাদিত্য বসু বলেন,গত দেড় বছরের দখলদার সরকারের আমলে বাংলাদেশ হিন্দু জনগোষ্ঠীর জন্যে নরককুন্ডে পরিণত হয়েছে। হিন্দুদের পক্ষে সংগ্রাম করার কারণে সাধু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে বিনা বিচারে প্রায় চৌদ্দ মাস ধরে কারান্তরীন রাখা হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করে আরেকটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড চট্টগ্রামের এডভোকেট আলিফ হত্যার ঘটনায় দুই শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বীকে গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। ময়মনসিংহের হিন্দু যুবক দীপু দাসকে নৃসংসভাবে পুড়ীয়ে হত্যার ঘটনা বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করেছে। গত দেড় বছরে কেবলমাত্র ধর্ম অবমাননার মিথ্যা ধুয়ো তুলে অন্তত আড়াইশোটি সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঝিনাইদহে গরীব রিকশাচালক গোবিন্দ বিশ্বাসকে কেবলমাত্র হাতে লালসুতো বাঁধা থাকার কারণে ভারতীয় র এর এজেন্ট আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে ও মাথা ফাটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়িতে অমৃত মন্ডল সম্রাট নামের এক হিন্দু যুবককে মিথ্যা অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় ব্রজেন্দ্র বিশ্বাস নামের এক হিন্দু আনসার সদস্যকে তারই সহকর্মী নোমান মিয়া ‘দাদা গুলি করে দেই?’ বলে সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে। চট্টগ্রামের রাউজানের সুলতানপুর গ্রামে দুটি হিন্দু পরিবারকে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পিরোজপুরের ৫টি হিন্দু পরিবারকেও একইভাবে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে পুরো বাংলাদেশই আজ হিন্দুদের জন্যে অগ্নিকুন্ডে পরিণত হয়েছে। নীরব এবং সরব অত্যাচার চলছেই। সেই সাথে চলছে দেশত্যাগ। গত দেড় বছরে অন্তত ২ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে ভারতে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে আশ্রয় নিয়েছে। রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে মর্যাদা দানের কারণে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং জাতিগত সংখ্যালঘু তথা আদিবাসীরা ২য় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়। রাষ্ট্রধর্মই সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও জাতিগত জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন নিপীড়নের পথ খুলে দেয়।
তিনি আরও বলেন,২০২৪ এর আগস্ট থেকে অদ্যবধি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংখ্যালঘুর ওপর সহিংস্তার ঘটনা ৩০০০ এর বেশি । অপ্রকাশিত ঘটনা এর কয়েকগুণ বেশি হবে। হত্যা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, জোরপূর্বক জমি-বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, শারীরিক নির্যাতন ও কর্মস্থল থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো , ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে বাধা, অপহরণ , চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ চলছেই। সরকারের পক্ষ থেকে এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক সহিংসতার মোড়কে ঢেকে রাখা হলেও প্রকৃতপক্ষে সংখ্যালঘু নির্যাতনকে, সংখ্যালঘু নির্যাতনই বলতে হবে। সার্বিকভাবে, নিরাপত্তার অভাব, চাকরিতে বৈষম্য, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বমুখী প্রবণতা, প্রকাশ্য ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার হুমকি, ‘একটা একটা হিন্দু ধর, সকাল বিকাল জবাই কর’ জাতীয় স্লোগান- এ সমস্ত কিছুই প্রকৃতপক্ষে হিন্দু ইথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়ারই অংশ। বাংলাদেশ থেকে যে সকল হিন্দু প্রাণ বাঁচাতে ভারতে পালিয়ে এসেছেন, তারা ভারতেও মানবেতর জীবনযাপন করছে। নাগরিকত্ব না থাকার কারণে তারা ভারতে কোনো কাজ পাচ্ছেনা। ভারতের হোটেলগুলোতে থাকার জায়গা পাচ্ছেনা, বাড়ীভাড়া , চিকিৎসা নিতে পারছে না। ফলে অর্থাভাবে চিকিৎসার অভাবে ও খাদ্যাভাবে মানবেতর জীবনের দিকে বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে ঠেলে দিয়েছে। আমি ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই, বিপদাপন্ন এই বাংলাদেশি হিন্দুদের জন্যে নাগরিকত্ব আইন শিথিল করে তাদের মানবিক জীবনধারণের পথ সুগম করুন।
ভারত সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাপ্পদিত্য বলেন, সিএএএ আইনের অধীনে বর্তমানে ২০১৪ সাল অব্দি ভারতে আসা হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেয়া হচ্ছে- এজন্যে ভারত সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু বিপদাপন্ন হিন্দুদের বাঁচাতে এই আইনের সময়সীমা শিথিল করে ২০১৪ এর পরিবর্তে বর্তমান সময় অব্দি চালু রাখা প্রয়োজন। আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী ভিসা (৫বছর) ব্যবস্থা সহজ করা প্রয়োজন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আসা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যান্য ধর্মাবলম্বী রাজনৈতিক কর্মীরাও ভারতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে মানবেতরভাবে আশ্রিত আছে। তাদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, অনেকে পাসপোর্টটিও নিয়ে আসতে পারেনি। এই রাজনৈতিক কর্মীদের যথাযথ যাচাই বাছাই করে, দীর্ঘমেয়াদী ভিসা অনুমোদন দেয়া প্রয়োজন। তবে, বাংলাদেশ থেকে কোনো জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সদস্য যাতে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো সহিংসতা না ঘটাতে পারে- সে ব্যাপারেও কঠোর নজরদারি রাখা প্রয়োজন । আজকে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ এবং বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে বিভৎস ও নারকীয় নিপীড়ন চলছে তার বিপরীতে আবারও নতুন করে ভারতবাসী ও বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানাই।
ইউনুস সরকারের কঠোর সমলোচনা করে তিনি বলেন,২০২৪ এর ৫ আগস্ট, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত দেড় বছরে বাংলাদেশের দখলদার সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং রাষ্ট্রের জন্ম ইতিহাসকে অস্বীকার করে পাকিস্তানপন্থী ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার ভাবধারায় চলতে শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির ওপর লাগাতার আক্রমণ, স্মৃতিসৌধ- শহীদ মিনার, জাতির পিতার বাসভবন সহ স্বাধীনতার প্রতীকগুলোকে ধ্বংস সাধন , সামাজিক সাংস্কৃতিক শুভ শক্তির ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ এবং ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ ইত্যকার কর্মকান্ড অব্যহত রয়েছে। এক কথায় পুরো বাংলাদেশে এখন আগুন জ্বলছে।অবৈধ দখলদার ইউনুস সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় উগ্র সশস্ত্র জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর নব উত্থান হয়েছে। পূর্বে আটককৃত জঙ্গীদেরকে জেল থেকে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) এর শীর্ষ নেতা জসীমউদ্দীন রাহমানী, জামায়াতুল মজাহিদীন বাংলাদেশ (জে এম বি) এর শীর্ষ নেতা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী, হরকাতুল জিহাদ (হুজি) এর শীর্ষ নেতা মুফতি হারুন ইজহারের মত ভয়ঙ্কর জঙ্গীদের অবাধ বিচরণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এরা এখন প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তৃতা করে ভারতবিরোধী উসকানি, হিন্দুদের নিশ্চিহ্ন করা এবং ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিচ্ছে ।
সম্প্রতি , রাজধানী ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের যে মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হলো সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, ১১টি সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই মাদ্রাসাটি জঙ্গী নেতা হারুন ইজহারের শ্যালক আল আমিনের নিয়ন্ত্রাণাধীন ছিলো। সেখানে দুইজন ভারতীয় মুসলিম নাগরিকের উপস্থিতির প্রমাণও পাওয়া গেছে। ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (কালচারাল) আসগর স্বয়ং ঐ মাদ্রাসায় জিহাদীদের সাথে সরাসরি বৈঠক করেছে বলেও তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর সব কিছুর পিছনে আইএসআই এমনটা বলে তিনি আরও বলেন,পাকিস্তানী সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই – যাদের কাজ সন্ত্রাস উৎপাদন , লালন ও রপ্তানি করা, তার ঢাকা সেল সম্প্রতি বাংলাদেশের জঙ্গীদের একটি বিশেষ গ্রুপ- মুহাজির রেজিমেন্ট গড়ে তুলেছে। এই রেজিমেন্টে বাংলাদেশে অবাধ বিচরণের সুযোগ পাওয়া পাকিস্তানি জঙ্গী সদস্যরা যুক্ত আছে। এছাড়া বাংলাদেশে থাকা স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানিরা এই রেজিমেন্টে কাজ করছে। এর বাইরেও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যাল্ভেশন আর্মি (আরসা) এই মুহুর্তে প্রচন্ডভাবে সক্রিয়। এই কম্বাইন্ড মুহাজির রেজিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে ঢাকাস্থ পাকিস্তানি হাই কমিশন বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন ভারতীয় স্থাপনা যথা ভারতীয় হাই কমিশন, ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র, ইন্ধিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার ইত্যাদিতে হামলার ছক কষছে। গত ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের খুলশীতে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র এবং ডেপুটি হাই কমিশনারের বাসভবনে হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে জঙ্গী নেতা হারুন ইজহার। এই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানি নাগরিকের সরাসরি জড়ীত থাকার প্রমাণ ও পাওয়া গেছে। হামলার পর, পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছিলো, ওইদিন গভীর রাতে হারুন ইজহার নিজে খুলশী থানায় গিয়ে পুলিশকে শাসিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে। সম্প্রতি ঢাকায় ওসমান হাদি হত্যার ঘটনাটি এই চক্রেরই সাজানো কাজ বলে ইতিমধ্যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা এবং হাদি হত্যার দায় ভারতের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তারা ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চেয়েছিলো। আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ঢাকাস্থ পাকিস্তানি হাই কমিশনেই আশ্রিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক তদন্ত করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
ভারত সরকার ও ভারতবাসীর কাছে আকুল আবেদন করে এই সনাতনী যোদ্ধা বলেন, এই পবিত্র ভারতভূমি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভূমি, ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের ভূমি, ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের ভূমি, সারদা মায়ের ভূমি । এই ভারতভূমির ওপর পৃথীবীর সকল হিন্দুর পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। আত্মরক্ষার্থে আমি নিজে ভারতবর্ষে আশ্রয় নিয়েছি। দয়া করে আমাদেরকে বাংলাদেশের অগ্নিকুন্ডে পাঠিয়ে গণহত্যার মুখে ঠেলে দেবেন না। স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগো ভাষণে যেমনটি বলেছিলেন, এই সর্বংসহা ভারতবর্ষ ও সনাতনী সংস্কৃতি পৃথিবীর সকল সভ্যতার নিপীড়িত মানুষকে আশ্রয় দেয়, একইভাবে আজ বিপন্ন বাংলাদেশের বিপন্ন মানুষগুলোকে ভারত মাতার কোলে ঠাঁই নেওয়ার অধিকার থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না।
আমরা আমাদের সোনার বাংলা ফেরত চাই। আমরা ভারতে চিরকালের জন্যে থাকতে চাই না। আমরা বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে আবার জয় বাংলা স্লোগান উচ্চারণ করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে আবার রবীন্দ্রনাথের আমার সোনার বাংলা গাইতে চাই, আমরা নজরুলের গান গাইতে চাই, আমরা লালনের গান গাইতে চাই। ভারতবাসী ও বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন, আমাদের বাংলাদেশ আমাদেরকে ফিরিয়ে দিন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা বলেন, আমরা বাংলাদেশের সব সনাতনী ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির পক্ষে আছি। আপনাদের পাশে আছি। যেভাবেই হোক জিহাদিদের হাত থেকে আপনাদের রক্ষা করতে আমরা আপনাদের পাশে থাকব। ভারত সরকারও পাশে থাকবে এটা স্পষ্ট করে বলছি।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার কথা বলেন অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতির রাজ্য সম্পাদক ব্রক্ষবিদ্যানন্দ মহারাজ,অলইন্ডিয়া লিগাল এড ফোরামের সম্পাদক সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী জয়দীপ মুখার্জি, একাত্তরের যুদ্ধে বীরচক্র সম্মান পাওয়া ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্তা বিমলকুমার চন্দ ও সনাতনী সংসদের সভাপতি গোবিন্দ দাস।